মোড়াপাড়া জমিদার বাড়ি, সোনারগাঁওয়ের আভিজাত্যের নীরব ইতিহাস
বাংলার জমিদারি ইতিহাস ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন হলো মোড়াপাড়া জমিদার বাড়ি। নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মোড়াপাড়া গ্রামে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক জমিদার বাড়িটি একসময় ছিল প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের বাসস্থান ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। আজও এর ভগ্নপ্রায় স্থাপত্য বাংলার অতীত গৌরবের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
মোড়াপাড়া জমিদার বাড়ির ইতিহাস
মোড়াপাড়া জমিদার বাড়ি মূলত ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত বলে ধারণা করা হয়। তৎকালীন সময়ে এই অঞ্চলের জমিদাররা কৃষি, নীলচাষ ও স্থানীয় বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন। মোড়াপাড়া জমিদার পরিবার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
এই জমিদার বাড়ি শুধু আবাসিক স্থাপনা নয়, বরং এখান থেকেই পরিচালিত হতো খাজনা আদায়, বিচারকার্য এবং অতিথি আপ্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
স্থাপত্যশৈলী ও নির্মাণ বৈশিষ্ট্য
মোড়াপাড়া জমিদার বাড়ির স্থাপত্যে ইউরোপীয় ও উপমহাদেশীয় রীতির চমৎকার সংমিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়। বাড়িটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—
প্রশস্ত উঠান ও খোলা বারান্দা
উঁচু স্তম্ভ ও খিলানযুক্ত প্রবেশপথ
কারুকার্য খচিত দরজা ও জানালা
পুরু দেয়াল ও লাল ইটের নির্মাণশৈলী
আলাদা অন্দরমহল ও বাহিরমহল
যদিও বর্তমানে ভবনের অনেক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত, তবুও অবশিষ্ট কাঠামো থেকেই এর একসময়ের আভিজাত্য সহজেই অনুমান করা যায়।
জমিদার বাড়ির অভ্যন্তরীণ বিন্যাস
একসময় মোড়াপাড়া জমিদার বাড়ির ভেতরে ছিল—
বসবাসের কক্ষ
দরবার ঘর
অতিথিশালা
রান্নাঘর
গুদামঘর
কর্মচারীদের থাকার স্থান
বড় উঠানকে কেন্দ্র করে বাড়ির কক্ষগুলো সাজানো ছিল, যা তৎকালীন জমিদার বাড়ির সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
বর্তমান অবস্থা
দীর্ঘদিনের অবহেলা ও প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে মোড়াপাড়া জমিদার বাড়ির অনেক অংশ আজ ধ্বংসপ্রায়। যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি তার পুরোনো রূপ হারাতে বসেছে। তবুও ইতিহাসপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে এটি এখনও একটি আকর্ষণীয় স্থান।
কিভাবে যাবেন মোড়াপাড়া জমিদার বাড়ি
ঢাকা থেকে গুলিস্তান হয়ে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা যেতে হবে
মোগড়াপাড়া থেকে রিকশা, অটো বা সিএনজি করে মোড়াপাড়া গ্রামে পৌঁছানো যাবে
সোনারগাঁও জাদুঘর বা পানাম নগর ভ্রমণের সময় সহজেই মোড়াপাড়া জমিদার বাড়ি ঘুরে আসা যায়
ভ্রমণের সেরা সময়
শীতকাল (নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি) মোড়াপাড়া জমিদার বাড়ি ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এই সময়ে আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে এবং চারপাশের পরিবেশ উপভোগ করা যায়।
দর্শনার্থীদের জন্য সতর্কতা
ভবনটি পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ—ভেতরে প্রবেশে সতর্ক থাকুন
দেয়াল বা কাঠামোর উপর ওঠা থেকে বিরত থাকুন
ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষতি হয় এমন কোনো কাজ করবেন না
পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন


