বাংলার তাজমহল, ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি এক অনন্য স্থাপনা
ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত তাজমহল। সেই ভালোবাসারই এক ব্যতিক্রমী রূপ বাংলাদেশে গড়ে উঠেছে, যা পরিচিত “বাংলার তাজমহল” নামে। ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় অবস্থিত এই স্থাপনাটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে একটি জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান।
বাংলার তাজমহলের ইতিহাস
বাংলার তাজমহল নির্মাণ করেন প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ব্যবসায়ী আহসানউল্লাহ মোনি। তিনি ভারতের আগ্রার তাজমহলের আদলে এই স্থাপনাটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন তার স্ত্রী হোসনে আরা মোনির প্রতি ভালোবাসার স্মারক হিসেবে।
১৯৯০-এর দশকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে দীর্ঘ সময় পর এটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। যদিও এটি মূল তাজমহলের পূর্ণাঙ্গ অনুকরণ নয়, তবুও স্থাপত্যিক সৌন্দর্য ও আবেগিক মূল্য এটিকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
স্থাপত্য ও নকশা
বাংলার তাজমহলের নকশায় স্পষ্টভাবে আগ্রার তাজমহলের ছাপ দেখা যায়। এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—
সাদা রঙের মার্বেল সদৃশ নির্মাণশৈলী
গম্বুজ ও মিনার আকৃতির কাঠামো
সামনের খোলা চত্বর ও প্রতিফলনমূলক পরিবেশ
সমমিতিক (Symmetrical) নকশা
ছোট পরিসরে নির্মিত হলেও স্থাপনাটি ছবি তোলা ও ঘোরাঘুরির জন্য বেশ আকর্ষণীয়।
দর্শনার্থীদের আকর্ষণ
বাংলার তাজমহল বিশেষ করে জনপ্রিয়—
দম্পতি ও নবদম্পতিদের কাছে
ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফির জন্য
পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে স্বল্প সময়ের ভ্রমণে
শীতকাল ও ছুটির দিনে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকে।
কিভাবে যাবেন বাংলার তাজমহল
ঢাকা থেকে গুলিস্তান বা যাত্রাবাড়ী হয়ে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা যেতে হবে
সেখান থেকে রিকশা, অটো বা সিএনজি করে বাংলার তাজমহলে পৌঁছানো যায়
প্রাইভেট কার বা মোটরসাইকেলেও সরাসরি যাওয়া সম্ভব
সোনারগাঁও জাদুঘর, পানাম নগর ও মোড়াপাড়া জমিদার বাড়ি ভ্রমণের দিনেই বাংলার তাজমহল ঘুরে নেওয়া যায়।
প্রবেশ ফি ও সময়সূচী
প্রবেশ ফি: সাধারণত স্বল্পমূল্যের (সময় ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে)
খোলার সময়: সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত
ভ্রমণের আগে স্থানীয়ভাবে হালনাগাদ তথ্য জেনে নেওয়া উত্তম।
ভ্রমণের সেরা সময়
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি (শীতকাল)
বিকেল বেলা আলো ও আবহাওয়া ছবি তোলার জন্য সবচেয়ে ভালো
বর্ষাকালে জায়গাটি কিছুটা পিচ্ছিল হতে পারে
দর্শনার্থীদের জন্য পরামর্শ
স্থাপনার সৌন্দর্য রক্ষায় কোনো ধরনের ক্ষতি করবেন না
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
শিশুদের প্রতি নজর রাখুন
নির্ধারিত এলাকার বাইরে প্রবেশ করবেন না


